আলু চাষ শুরুর আগে যা জানা প্রয়োজন
আলু একটি উচ্চ ফলনশীল ও লাভজনক ফসল। তবে সঠিক পরিকল্পনা, উপযুক্ত জমি নির্বাচন, মানসম্মত বীজ ও সঠিক পরিচর্যা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না। তাই চাষ শুরু করার আগে মৌলিক বিষয়গুলো জানা জরুরি।
আলু চাষের উপযোগী আবহাওয়া
আমাদের দেশে শীতকালে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় না। শীতের সময় রোদের তাপও খুব বেশি থাকে না। তাই শীতের সময় আলু চাষের জন্য উপযোগী এবং আমাদের দেশে সাধারণত শীতকালে আলু চাষ করা হয়।
আলু চাষের উপযোগী জমি নির্বাচন
এঁটেল মাটিতে আলুর ফলন ভালো হয় না। আবার আলুর জমিতে পানি জমে থাকলে আলু পচে যায়। এজন্য বেলে দোঁআশ থেকে দোআঁশ মাটি এবং উঁচু জমি আলু চাষের জন্য ভালো। আলু চাষের জন্য সেচ প্রয়োজন হয়। কাজেই সেচের সুবন্দোবস্ত থাকতে হবে এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এছাড়া জমিটিতে অবশ্যই পর্যাপ্ত রোদ পড়তে হবে। আলু চাষের জমির মাটিকে বারবার চাষ দিতে হয় যাতে মাটি মিহি হয়ে যায়। এছাড়া জমিতে যাতে আগাছা না থাকে সেদিকেও খেয়াল করা প্রয়োজন। সেদিক থেকে ধান চাষের জমিতে আলুর চাষ ভালো হয়ে থাকে। আগাম ধান আবাদ করা জমি যেখানে ধান কাটার পরই আলুর আবাদ করা সম্ভব এরকম জমি নির্বাচন করা ভালো।
চাষের জন্য আলুর জাত নির্বাচন
বাংলাদেশ কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র আলুর অসংখ্য জাত অবমুক্ত করেছে। এ জাত গুলোর কোনোটি খাবার আলু হিসেবে ভালো, কোনোটি প্রক্রিয়াজাতকরণের উপযোগী, কোনোটি রপ্তানিযোগ্য, কোনোটি রোগপ্রতিরোধী আবার কোনোটি সাধারণ তাপমাত্রায় সংরক্ষণের উপযোগী। প্রয়োজন অনুযায়ী এ জাতগুলো থেকে চাষের জন্য আলু নির্বাচন করা যেতে পারে।
আলু চাষের জমি তৈরি
মাটিতে জো আসলে গভীরভাবে চাষ দিতে হবে এবং মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। মাটি ঝুরঝুরে করতে কমপক্ষে ৪টি চাষ দেয়া প্রয়োজন। জমিতে যাতে বড় ঢেলা না থাকে এবং মাটি মিহি হয়ে যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। মাটিতে বড় বড় ঢেলা থাকলে তা আলুর কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে এবং এর ফলে বিকৃত আকারের আলু তৈরি হয়। এছাড়া জমি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে সেচ দিলে জমির সব জায়গায় সমানভাবে সেচের পানি পৌঁছায়।
আলুর বীজ শোধন
যদি কোল্ড স্টোরেজে রাখার আগে আলুর বীজ শোধন করা না হয়ে থাকে তাহলে বীজ আলুতে অঙ্কুর গজানোর আগেই ৩% বোরিক এসিড দিয়ে শোধন করে নিতে হবে। অর্থাৎ ১ লিটার পানির সাথে ৩০ গ্রাম হারে বোরিক এসিড মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বীজ আলুগুলোকে চুবিয়ে রেখে ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে শুকিয়ে নিতে হবে। বোরিক এসিড দিয়ে শোধন করে নিলে দাঁদ /স্ক্যাব এবং ব্ল্যাক স্কার্ফ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
বীজের পরিমাণ
সাধারণত প্রতি শতাংশ জমিতে ৬-৮ কেজি বীজ আলু প্রয়োজন হয়। তবে রোপণ দূরত্ব ও বীজের আকারের কারণে বীজের পরিমাণে তারতম্য ঘটে।
আলুর বীজ তৈরি বা সংগ্রহ
পরিণত আলুকেই বীজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আলুর গায়ে যে চোখ থাকে সেগুলি থেকেই অংকুর বের হয়। আলুর বীজ থেকে অংকুর গজানোর পর প্রথম কুশিটি ভেঙে দিলে অন্য কুশিগুলো সমানভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
আলুর আকার যদি ছোট হয় তাহলে পুরো আলুটি একটি বীজ হিসেবে রোপণ করতে হয়। ৩০-৪০ গ্রাম ওজনের আস্ত আলু বীজ হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভালো।
আলুর আকার বড় হলে আলুকে টুকরো করে নিতে হয়। বীজের জন্য আলু কাটার সময় খেয়াল করতে হবে যে প্রতিটি টুকরোতে যেন কমপক্ষে দুটি করে চোখ থাকে। বীজের টুকরোগুলোর ওজন অন্তত ২৫ গ্রাম বা আকৃতি অন্তত এক বর্গ ইঞ্চি হওয়া উচিত।
কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলুর বীজ বের করা হলে তা ৪৮ ঘণ্টা প্রি হিটিং রুমে রাখতে হবে। বীজ কোল্ড স্টোরেজ থেকে বের করে বস্তা বন্ধ আবস্থায় রাখলে ঘেমে পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বীজ আলু বাড়িতে আনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বস্তা খুলে ছড়িয়ে আবহাওয়ার সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য স্বাভাবিকভাবে বাতাস চলাচল করে এমন ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।
বীজ লাগানোর ২ থেকে ৩ দিন আগে আলু কেটে ছায়াময় স্থানে কিছুটা আর্দ্র আবহাওয়ায় রেখে দিতে হয়। এতে আলুর কাটা অংশের ওপর একটা প্রলেপ পড়ে। এই প্রলেপ আলু বীজকে মাটির ভেতরে নানা রকমের রোগ-জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। আবার কাটা অংশে পরিষ্কার ছাই মেখে দিলেও আলু বীজে রোগজীবাণু প্রবেশে বাধা পায়। ছাই ব্যবহার করতে চাইলে ১ কেজি পরিষ্কার ছাই এর সাথে ১০০-২০০ গ্রাম ফার্নাজসাইড ডাইমেন এম-৪৫ মিশিয়ে দিতে হবে। এতে আলুর পচে যাওয়ার হার অনেকাংশেই কমে যায়।
এছাড়া আলু কাটার সময় প্রতিটি আলু কাটার পর সাবান-পানি দিয়ে ছুরি বা বটি পরিষ্কার করা উচিত যাতে রোগ জীবাণু এক বীজ থেকে অন্য বীজে না ছড়ায়।
বীজ আলো আড়াআড়িভাবে না কেটে লম্বালম্বিভাবে কাটতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে যাতে প্রতিটি অংশে অন্তত দুটি চোখ বা কুশি থাকে।
আলুর বীজ বপনের সময়
বর্তমানে বাংলাদেশে নভেম্বর মাস আলু রোপণের উপযুক্ত সময়। সাধারণত নভেম্বরের শুরু থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আলু রোপণ করা হয়। তবে মধ্য নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের ১ম সপ্তাহের মধ্যে আলুর বীজ বপন করা গেলে ভালো ফলন হতে দেখা যায়।
আলুর বীজ বপনের পদ্ধতি
আলুর জমিতে বিশ ইঞ্চি দূরত্বে আলের মতো দাড়া করতে হয়। আর দাড়াগুলির দুপাশে অগভীর নালা রাখতে হয়। দাড়ার ওপর ছয় ইঞ্চি পরপর আলুর বীজ পুঁততে হয়। আলুর বীজগুলো আনুমানিক ২ ইঞ্চি গভীরে পুঁততে হবে। এরপর বীজগুলোর ওপর মাটি চাপা দিতে হবে। আলু গাছের গোড়ায় পানি জমলে গাছ মরে যায়। এভাবে বীজ বপন করলে গাছের গোড়ায় পানি জমতে পারে না আবার গাছ মাটি থেকে প্রয়োজনীয় রস পায়।
প্রচলিত পদ্ধতিতে সারি থেকে সারির দূরত্ব সাধারণত হাতের মাপে ২ থেকে ৩ বিঘত বা প্রায় ২ ফুট মতো রাখা হয়। আর বীজ থেকে বীজের দূরত্ব এক বিঘত বা আনুমানিক ৯-১০ ইঞ্চি রাখা হয়। কাটা আলুর ক্ষেত্রে বীজ থেকে বীজের দূরত্ব ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত রাখা হয়।
আলু চাষ ও পরিচর্যা
তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ে আলুর ফলন পাওয়া যায় এবং সঠিক ব্যবস্থাপনায় ভালো ফলন নিশ্চিত করা যায়। তবে উচ্চ ফলন নিশ্চিত করতে হলে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ নির্বাচন, রোপণ, সেচ, সার প্রয়োগ, আগাছা দমন, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক সময়ে সংগ্রহ এর প্রতিটি ধাপই সঠিকভাবে অনুসরণ করা জরুরি। এই নিবন্ধে আলু চাষ ও পরিচর্যার ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে আপনি চাষের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সংরক্ষণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন।
আলু ক্ষেতের পরিচর্যা
সঠিক সময়ে বপন না করলে এবং নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা না করলে আলুর ফলন ভালো হয় না।
সেচ:
আলুর জমি সবসময় সরস থাকা প্রয়োজন। বীজ বপনের পর যদি মাটিতে পরিমিত রস না থাকে তাহলে ৩ থেকে ৪ দিন পর পর পানির ঝাপটা দিয়ে মাটিকে সরস রাখতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে ক্ষেতে কোনোভাবেই পানি না দাঁড়িয়ে থাকে।
ভেলি বাঁধার পর হালকা সেচ দিতে হবে। সেচ দেয়ার সময় লক্ষ রাখতে হবে যে দাড়ার নালীগুলো অর্ধেকের বেশি যাতে ডুবে না যায়। আলুর ক্ষেতে একবারে অনেক পানি সেচ না দিয়ে, বারবার অল্প সেচ দিতে হয়।
সাধারণত আলু ক্ষেতে ১০ থেকে ১২ বার সেচ দেয়ার প্রয়োজন হয়। আলু ক্ষেতে কয়েকটি ধাপে সেচ দিতে হয়। ২০-২৫ দিনের মধ্যে স্টোলন (stolon) বের হওয়ার সময়, ৪০-৪৫ দিনের দিকে গুটি বের হওয়া পর্যন্ত এবং পরে আলু বৃদ্ধির সময়।
আলু তোলার ৭ থেকে ১০ দিন আগে সেচ দেয়া বন্ধ করতে হবে। মাটি ভেদে এ সময়ের তারতম্য হতে পারে। তবে যখন আলু গাছের পাতা হলুদ হতে শুরু করবে তখন থেকে ক্ষেতে সেচ দেয়া বন্ধ করতে হবে।
খেয়াল রাখতে হবে যে আলুর দাঁদ রোগ নিয়ন্ত্রণের একটি উপায় হলো আলু রোপণের পর ৩০ থেকে ৩৫ দিনের সময়টাতে জমিতে কোনো অবস্থাতেই রসের ঘাটতি হতে দেয়া যাবে না আবার ৬০ থেকে ৬৫ দিনের সময়ে জমিতে কিছুতেই অতিরিক্ত রস জমতে দেয়া যাবে না।
এছাড়া আলু ক্ষেত সবসময় আগাছামুক্ত রাখতে হয়। আলু লাগানোর ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে আগাছা পরিষ্কার করে দুই সারির মধ্যবর্তী স্থান কুপিয়ে উপরি সার প্রয়োগ করতে হয়। সার মেশানো মাটি গাছের গোড়ায় তুলে দিতে হবে। মাটি কোপানোর সময় যাতে গাছের শিকড় না কাটে এবং মাটি দেওয়ার সময় গাছের পাতা চাপা না পড়ে তা খেয়াল রাখতে হবে। আবার ৫৫-৬০ দিনের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং মাটি তুলে দিতে হবে।
কখনও যদি মাটি সরে গিয়ে আলু আলগা হয়ে যায় তাহলে তা মাটি তুলে ঢেকে দিতে হবে।
আলুর ক্ষেতে রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণ হলে প্রয়োজনমতো তা দমন করতে হবে। কোনো গাছ রোগাক্রান্ত হলে গাছটি তুলে ফেলতে হবে এবং জমি থেকে দূরে নিয়ে গিয়ে মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে; এতে ক্ষেতে আলুর মড়ক লাগা এড়ানো সম্ভব।
আলু ক্ষেতে সার প্রয়োগ
আলুর ভালো ফসল পেতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার দিতে হয়। সাধারণত নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশ এই তিন প্রকার সার বেশি প্রয়োজনীয়।
খেয়াল করা প্রয়োজন যে বিভিন্ন জায়গার মাটির উর্বরতা ভিন্ন হয়। কাজেই সারের চাহিদা সকল জমির জন্য সমান হয় না। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল থেকে “সার সুপারিশ গাইড” প্রকাশ করা হয়। সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এই গাইড অনুসরণ করে নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য সার প্রয়োগের পরিমাণ কেমন হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করা যায়।
নিচে বাংলাদেশ কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্রের সুপারিশকৃত আনুমানিক সারের পরিমাণ দেওয়া হলো। তবে নির্দিষ্ট জমির ক্ষেত্রে সারের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সার সুপারিশ গাইড এবং নিজ অভিজ্ঞতার সমন্বয় করা প্রয়োজন।
| সারের নাম | ইউরিয়া | টিএসপি | এমপি | জিপসাম | জিংক সালফেট | বোরিক এসিড (প্রয়োজন হলে) | গোবর |
| সারের পরিমাণ (কেজি / শতক) | ১.৩ | ০.৮ | ১ | ০.৪ | ০.০৩২ | ০.০২৪ | ৪০ |
গোবর ও জিংক সালফেট শেষ চাষের সময় জমিয়ে মিশিয়ে দিতে হয়। অর্ধেক ইউরিয়া, সম্পূর্ণ টিএসপি, এমপি, জিপসাম ও বোরন সার রোপণের সময় সারির দুই পাশে বা জমিতে মিশিয়ে দিতে হয়। বাকি ইউরিয়া রোপণের ৩০ থেকে ৩৫ দিন পর দ্বিতীয়বার মাটি তোলার সময় উপরি প্রয়োগ করতে হয়।
তবে যেহেতু আলু বীজ দাড়ায় বসানো হয়, তাই দাড়া টানার আগে পুরো জমিতে সার না দিয়ে, দাড়া টানার পরে এক জায়গায় সার দিলে অপচয় কম হয়। ২০ ইঞ্চি দূরে দূরে ছোট ছোট নালী খুড়ে তাতে সার ছড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। তারপর ঐ জায়গায় দাড় তৈরি করে বীজ বুনতে হয়।
যে লাইনে বীজ রোপণ করা হয়েছে সে লাইনের উভয় পাশে ৪ ইঞ্চি দূরে লাইন টেনে সার দেয়া ভালো। সার প্রয়োগের পরই সার ও বীজ মাটি দিয়ে ভেলি তুলে ঢেকে দিতে হবে।
আলুর বিভিন্ন রোগ ও তার প্রতিকার
আলুর প্রধান রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে নাবী ধ্বসা, ঢলে পড়া, দাঁদ, স্কাব বা স্টেম ক্যাঙ্কার, ব্ল্যাক লেগ। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসজনিত রোগও হয়ে থাকে। রোগ দমনে যদি সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে আলুর উৎপাদন কমে যায়।
নাবি ধ্বসা (Late Blight) বা আলুর মড়ক
এ রোগের আক্রমণে প্রথমে পাতায় ছোপ ছোপ হালকা সবুজ গোলাকার বা এলোমেলো দাগ দেখা যায়। দ্রুত এই পাতাগুলো কালো হয়ে পচে যায়। গাছের কাণ্ড ও টিউবারেও এ রোগের আক্রমন হয়। সকাল বেলা ক্ষেতে গেলে পাতার নিচে সাদা সাদা পাউডারের মত ছত্রাক দেখা যায়। আক্রমণ তীব্র হলে সম্পূর্ণ জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। যদি তাপমাত্রা খুব কম থাকে এবং বেশি কুয়াশা পড়ে তাহলে আক্রান্ত গাছ খুব পচে যায় এবং ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে ক্ষেতের সমস্ত গাছ মরে যেতে পারে।
নাবি ধ্বসা রোগ আলুর মড়ক নামে বেশি পরিচিত। ফাইটোপথোরা ইনফেসট্যান্স নামের ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়। ঠাণ্ডা ও ভেজা আবহাওয়ায় এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যদি রাতে তাপমাত্রা অনেক কমে যায় এবং তার সাথে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও কুয়াশা থাকে তাহলে পাতায় শিশির বা পানি জমে থাকে এবং এ রোগ কয়েক দিনের মধ্যে মড়কে রূপ নেয়।
সাধারণত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। আক্রান্ত বীজের মাধ্যমেই মূলত এ রোগ ছড়ায়। প্রায় তিন একর জমিতে যদি একটি রোগাক্রান্ত বীজ আলু রোপণ করা হয় সেটিই অনুকূল পরিবেশ পেলে এই সমস্ত ক্ষেতের আলু নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। বাতাস, বৃষ্টি বা সেচের পানির মাধ্যমে আক্রান্ত গাছ থেকে জীবাণু সুস্থ গাছে ছড়ায়। আলু ক্ষেতের পাশে যদি টমেটো ক্ষেত থাকে তাহলে টমেটো ক্ষেত থেকেও রোগের জীবাণু আলু ক্ষেতকে সংক্রমিত করতে পারে।
আলুর বীজ সংরক্ষণের সময় যদি আক্রান্ত আলু থেকে যায় তাহলে রোগের জীবাণু হিমাগারে সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায় এবং সেই বীজ রোপণ করলে গাছ গজানোর ৪০-৪৫ দিনের দিকে অনুকূল পরিবেশ পেলে এ রোগ দেখা দেয়।
আলুর মড়ক সহনশীল কিছু আলুর জাত রয়েছে যেমন: বারি আলু – ৪৬, বারি আলু – ৫৩, বারি আলু – ৭৭। এ ধরনের আলুর মড়ক প্রতিরোধী জাত রোপণ করে এ রোগের আক্রমণ এড়ানো যায়।
এ রোগ প্রতিরোধের আরেকটি উপায় হলো রোগমুক্ত বীজের ব্যবহার নিশ্চিত করা।
আগাম জাতের আলু চাষ করে এবং অনুকূল আবহাওয়ার পূর্বে আগাম আলু তুলতে পারলেও এ রোগের আক্রমণ এড়ানো যায়।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস খেয়াল করতে হবে। এবং নিম্ন তাপমাত্রা, কুয়াশা বা বৃষ্টির পূর্বাভাস অনুযায়ী রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করতে ৭-১০ দিন পর পর ম্যানকোজেব গোত্রের ছত্রাকনাশক যেমন ডাইথেন এম-৪৫ বা ইন্ডোফিল প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
তবে যদি ক্ষেতে ও রোগের সংক্রমণ হয় তাহলে সেচ বন্ধ করে দিতে হবে এবং ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। ভেজা অবস্থায় জমিতে ছত্রাকনাশক স্প্রে না করা ভালো। তবে যদি ভেজা অবস্থায় ছত্রাকনাশক দিতে হয় তাহরে প্রতি লিটার পানির সাথে ২-৩ গ্রাম সাবানের গুড়া যোগ করে দিতে হবে।
ছত্রাকনাশক ভালোভাবে ছিটাতে হবে যাতে পাতার নিচে ও উপরে ভালোভাবে ভেজে। এজন্য সাধারণ স্প্রেয়ারের তুলনায় পাওয়ার স্প্রেয়ার বেশি কার্যকর।
কীটনাশক স্প্রে করার সময় যে স্প্রে করবে তাকে অবশ্যই এপ্রন, হাত মোজা, চশমা ও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া খেয়াল রাখতে হবে যেন স্প্রে সবসময় বাতাসের অনুকূলে করা হয়।
এক সপ্তাহ পর পর নিচের যে কোন একটি ছত্রাকনাশক বা ছত্রাকনাশকের মিশ্রণ স্প্রে করতে হবে। তবে রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হলে আরো ঘন ঘন স্প্রে করা লাগতে পারে।
- সিকিউর (২ গ্রাম / লিটার পানিতে)
- এক্রোভেট এম জেড (২ গ্রাম / লিটার)
- মেলোডি ডুও ৪ গ্রাম + সিকিউর ২ গ্রাম (প্রতি লিটার পানিতে)
- এক্রোভেট এম জেড (২ গ্রাম / লিটার) + সিকিউর (১ গ্রাম / লিটার পানিতে)
- মেলোডি ডুও ১ গ্রাম + এক্রোভেট এম জেড (২ গ্রাম / লিটার)
এছাড়া আরো কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে:
- হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করার আগে সতর্কতার সাথে বীজ বাছাই করতে হবে যাতে কোনোভাবেই রোগাক্রান্ত আলু সুস্থ বীজের সাথে না থাকে
- আলু তোলার সময় রোগাক্রান্ত গাছ দিয়ে আলু সংগৃহীত আলু ঢেকে রাখা যাবে না
- আক্রান্ত জমি হতে বীজের জন্য আলু সংগ্রহ করা যাবে না
ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ (Bacterial wilt)
র্যালস্টোনিয়া সোলানেসিয়ারাম নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে আলু গাছ সবুজ অবস্থাতেই ঢলে পড়ে। অনেক সময় গাছের শাখাসমেত একটি অংশ ঢলে পড়ে। কাণ্ডের নিচের অংশ এবং শিকড় অক্ষত থাকে। কাণ্ড চিরলে কাণ্ডের ভেতরে বাদামী রঙের উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। এটি এ রোগের একটি লক্ষণ। আক্রান্ত গাছের কাণ্ড কেটে পরিষ্কার পানিতে খাড়া করে রাখলে কিছুক্ষণ পর দুধের মতো সাদা তরল পুঁজ বের হয়। সংগৃহীত আলুর চোখে সাদা পুঁজের মতো দেখা যায় এবং অল্প কিছু দিনের মধ্যে এ আলু পচে যায়। যদি এক একর কোনো ক্ষেতে একটি গাছ এ ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয় তাহলে ঐ ক্ষেত থেকে আলুর বীজ সংগ্রহ করা যাবে না।
এ রোগের জন্য সবচেয়ে অনুকূল তাপমাত্রা হলো ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নিম্ন তাপমাত্রায় আলুর কাণ্ডে ও টিউবারে এ ব্যাকটেরিয়া সুপ্ত অবস্থায় থাকে। বাতাসে যদি আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০-৯০% থাকে তা এই রোগ বিস্তারের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
এই ব্যাকটেরিয়া মাটিতে কিংবা আক্রান্ত আলুতে বেঁচে থাকতে পারে। এ ছাড়া গাছের পরিত্যক্ত অংশ ও বিকল্প পোষক গাছেও এ ব্যাকটেরিয়া আশ্রয় নিতে পারে। বৃষ্টি বা সেচের পানির মাধ্যমে এ ব্যাকটেরিয়া মাটিতে সংক্রমিত হতে পারে। আবার কৃষি যন্ত্রপাতি, শ্রমিকের পায়ের মাটির মাধ্যমেও এ ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটতে পারে।
এই ব্যাকটেরিয়া মাটিতে ১ ফুট থেকে ৩ ফুট গভীরতা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। শস্যাবশেষের মধ্যেও এ ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকে। সাধারণত আলু গাছের শিকড়ে প্রথমে আক্রমণ হয়। অনেক সময় আলুতে এ রোগের লক্ষণ সুপ্ত অবস্থায় থাকে যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
এই রোগ দমন করা বেশ কঠিন। কারণ এর জীবাণু মাটিতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে এবং এর অনেক বিকল্প পোষক রয়েছে। তবে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া অনেকটা কমিয়ে আনা যায়:
- বীজ সংগ্রহের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। কেবলমাত্র রোগমুক্ত ও সুস্থ বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
- বীজ আলু চাষের ক্ষেত্রে কাটা আলু না লাগিয়ে গোটা আলু লাগাতে হবে।
- আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুতের সময় শেষ চাষ দেয়ার আগে ১০০ গ্রাম হারে প্রতি শতাংশ জমিতে স্ট্যাপল ব্লিচিং পাউডার দিতে হবে। এবং আলুর বীজ বপনের পর যত শীঘ্র সম্ভব গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হবে।
- পরিমিতভাবে সেচ দিতে হবে।
- আলুসহ আক্রান্ত গাছ ও আশেপাশের মাটি দ্রুত অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলতে হবে। আক্রান্ত জায়গায় ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ করতে হবে। সেচের প্রয়োজন হলে আক্রান্ত অংশ বাদ দিয়ে সেচ দিতে হবে। আশেপাশের গাছও এভাবে বাছাই করে বাদ রাখতে হবে।
- আক্রান্ত জমিতে পরিবর্তীতে আলু, টমেটো, বেগুন বা মরিচ চাষ করা যাবে না। এদের প্রত্যেক ফসলই ফলে পড়া রোগের পোষক।
- আক্রান্ত জমিতে গম, ধান, ভুট্টা, পেয়াজ, রসুন, কপি, গাজর এসব ফসল চাষ করা যায়। যদি বীজ আলুর উদ্দেশ্যে চাষ করা হয়ে থাকে তাহলে আলুর সাথে ভুট্টা চাষ করা যায়, এতে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের ঝুঁকি কমে।
- গ্রীষ্মকালে কয়েকবার জমি চাষ করে প্রখর রৌদ্রে মাটি শুকিয়ে নিলে মাটিতে অবস্থিত রোগ জীবাণু অনেক কমে যায়।
- ক্ষেতে এ রোগের লক্ষণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে অবিলম্বে সেচ দেয়া, নিড়ানী দেয়া এবং মালচিং দেয়া বন্ধ করতে হবে।
- আলু লাগানোর আগে যদি জমিতে ধান থাকে তাহলে ধানের নাড়া শুকিয়ে মাটিতে বিছিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে মাটির রোগ জীবাণু অনেকাংশে মেরে ফেলা যায়।
- ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে জমিতে বীজ আলু কখনই চাষ করা যাবে না। ভেজা জমিতে ব্যাকটেরিয়ার উপদ্রব বেশি হয়।
আলুর দাঁদ (scab) রোগ
আলু সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
আলু চাষে ভালো ফলন পাওয়ার পর সঠিক সময়ে সংগ্রহ ও যথাযথ সংরক্ষণই লাভ নিশ্চিত করার প্রধান শর্ত। অসাবধানভাবে উত্তোলন করলে আলু আঘাতপ্রাপ্ত হয়, দ্রুত পচে যায় এবং সংরক্ষণযোগ্যতা কমে। আবার সঠিকভাবে কিউরিং, বাছাই, গ্রেডিং ও সংরক্ষণ না করলে ফলনের একটি বড় অংশ নষ্ট হতে পারে। তাই আলু সংগ্রহের সময়, উত্তোলন পদ্ধতি এবং সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরি। এই অংশে আলু তোলা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ধাপগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
আলুর ফলনের হিসাব
উপযুক্ত পরিচর্যা করতে পারলে প্রতি শতাংশ জমিতে ৯০ কেজি মতো আলু পাওয়া সম্ভব।
আলুর বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে রোগিং করা
মানসম্মত বীজ আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে রোগিং করতে হয়। গাছের বয়স যখন ৩০ থেকে ৩৫ দিন হয় তখন থেকে শুরু করে ফসল তোলার আগ পর্যন্ত নিয়মিত আলুর গাছ পর্যবেক্ষণ করতে হয় এবং নিচের কাজগুলো করতে হয়:
- অন্য জাতের গাছ থাকলে তা তুলে ফেলা
- রোগাক্রান্ত বা অস্বাভাবিক গাছ তুলে ফেলা
- যদি কোনো গাছ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তাহলে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মাটির নিচের আলুসহ গাছটি উঠিয়ে জমি থেকে দূরে কোথাও মাটির নিচে পুঁতে ফেলা
রোগিং করার জন্য সকাল ও বিকাল ভালো সময়। সূর্যকে পেছনে রেখে রোগিং করলে নিজের ছায়া গাছের ওপর পড়বে এবং রোগাক্রান্ত গাছের লক্ষণ বোঝা না যেতে পারে। খেয়াল করতে হবে যাতে কোনোভাবেই সুস্থগাছের সাথে রোগাক্রান্ত গাছের স্পর্শ না লাগে এবং শ্রমিকের হাতের স্পর্শের মাধ্যমেও যেন সুস্থ গাছে রোগের সংক্রমণ না ঘটে। বীজ উৎপাদন উদ্দেশ্য হলে বীজ আলু মাটি ভেদ করে উঠে আসার পর থেকে হাম পুলিং পর্যন্ত ৪/৫ দিন পর পর রোগিং করতে হবে। রপ্তানি করার জন্য আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে আলু রোগমুক্ত ও মানসম্মত হওয়া জরুরি। সেজন্য বীজ উৎপাদনের পাশাপাশি রপ্তানির জন্য উৎপাদিত আলুতেও রোগিং গুরুত্বপূর্ণ।
হমপুলিং (Haulm Pulling) বা গাছ উপড়ানো
গাছ টেনে তুলে ফেলার ৭ থেকে ১০ দিন আগে সেচ বন্ধ করতে হবে। তবে বেলে মাটির ক্ষেত্রে বেশিদিন আগে সেচ বন্ধ করলে মাটির মধ্যে আলুর হিট ইনজুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য বেলে মাটির ক্ষেতে ৫ থেকে ৭ দিন আগে সেচ বন্ধ করা ভালো। গাছ তুলে ফেলার সময় যদি মাটিতে পর্যাপ্ত রস থাকে তাহলে গাছ ক্ষেত থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। যদি পর্যাপ্ত রস না থাকে তবে গাছ দিয়ে পিলি ঢেকে দিতে হবে। এতে হিট ইনজুরি হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।
নমুনা আলু উত্তোলন করে আলুর আকার ও ফলন দেখে হমপুলিংয়ের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করতে হবে।
মাঠে মাটির নিচে কিউরিং
হামপুলিংয়ের পর মাটি ও আলুর অবস্থার ওপর নির্ভর করে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত আলুকে মাটির নিচে রেখে দিতে হবে। এতে আলুর ত্বক শক্ত হবে। আলুর ত্বক শক্ত হয়েছে কিনা তা দেখবার জন্য আলু তুলে নিয়ে বুড়ো আঙুল দিয়ে আলুর ত্বকে চাপ দিতে হবে। চাপ দিলে যদি চামড়া না ওঠে তাহলে বোঝা যাবে যথাযথ কিউরিং হয়েছে। আরেকটি পদ্ধতি হলে চটের বস্তায় কয়েক কেজি নমুনা আলু নিয়ে ঝাঁকুনি দেয়া। ঝাঁকুনিতে যদি আরুর ছাল না ওঠে তাহলে বুঝতে হবে কিউরিং হয়েছে।
মাটির নিচ থেকে আলু তোলা
বীজ বপনের ৩ মাসের মধ্যেই আলু তোলার উপযোগী হয়ে যায়। মাটি থেকে আলু তোলার সময় যাতে আলু নষ্ট না হয় সে বিষয়ে খেয়াল করতে হয়। বাড়িতে আলু সংরক্ষণ করতে চাইলে অবশ্যই মাচা করে বালু বিছিয়ে রাখতে হবে। গাদা করে আলু রাখা উচিত নয়, এতে নিচের দিকের আলু পচে যেতে পারে।
রৌদ্রোজ্জ্বল ও শুষ্ক আবহাওয়ায় আলু তুলতে হবে। কোদাল দিয়ে আলু তোলার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন আলু আঘাত না পায়। মাটি থেকে সদ্য তোলা আলু প্রখর রৌদ্রে রাখা যাবে না। মাঠেই প্রাথমিক বাছাইয়ের মাধ্যমে কাটা, ফাটা ও আংশিক পচা আলু বাতিল হিসেবে আলাদা করতে হবে যাতে সেগুলো ভালো আলুর সাথে না মেশে। বস্তায় ভরে বা ঝুড়িতে আনলে চট দিয়ে ঢেকে মাঠ থেকে আলু শেডে আনতে হবে। আলু পরিবহনের সময় আলুর বস্তা বা ঝুড়ি ফেলে দিয়ে আলুর খোসা থেতলে ফেলা যাবে না।
অস্থায়ী শেডে কিউরিং
আলু ক্ষেতের কাছেই ছায়াযুক্ত ঠাণ্ডা ও বাতাস চলাচল করে এমন অস্থায়ী শেড তৈরি করা উচিত। এই শেডে মাঠ থেকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা আলু নিয়ে এসে মেঝেতে বিছিয়ে রাখতে হবে। এভাবে বিছিয়ে রাখার সময় আলুর স্তুপ ১৫ ইঞ্চির বেশি হওয়া উচিত না। এ অবস্থায় অন্তত ৩ থেকে ৫ দিন রেখে আলুকে কিউরিং করতে হবে।
সর্টিং ও গ্রেডিং
আলু সংরক্ষণের আগে অবশ্যই ভালোভাবে আলু বাছাই করতে হবে। বাছাই ভালো হলে সংগৃহীত আলুর মান ভালো হবে। রোগাক্রান্ত, আঘাতপ্রাপ্ত, কাটা বা ফাটা, অসম আকৃতির এবং খুব সবুজ হয়ে যাওয়া আলু আলাদা করতে হবে। বাছাইকৃত আলুর মধ্যে যদি দু একটি রোগাক্রান্ত বা খারাপ আলুও থেকে যায় তাহলে সঙ্গের সকল আলুর মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ আলু যদি রপ্তানি করা হয় তাহলে পথেই এ আলু পচে নষ্ট হয়।
আলু সংরক্ষণ
আলু সর্টিং ও গ্রেডিং করা হলে নির্দিষ্ট মাপের বস্তায় ভরে আলুকে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করতে হবে। আলুর বস্তার মাপ ৫০ কেজি থেকে শুরু করে ৯০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে কিছু আলু নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ৩ থেকে ৫ মাস কোল্ড স্টোরেজ ছাড়াই সংরক্ষণ করা যেতে পারে।